ম্যসাচুসেটসের কেইপকোডে এলো পালতোলা একটি জাহাজ। সময়টা ১৬২০ সাল। স্থানীয় মানুষ ঘিরে ধরল জাহাজটিকে। কয়েকটি ময়লাটে-সাদা রঙের পাল শোভা পাচ্ছে তাতে। জাহাজ থেকে নেমে এলো ধবধবে শুভ্র বর্ণের কিছু মানুষ। ম্যাসাচুসেটসের লালচে বাদামী মানুষেরা অদ্ভুত দৃষ্টিতে দেখতে লাগল তাদের। এরা একদম ভিন্ন জাতের, ভিন্ন পোশাক, ভিন্ন চলনের।  

“মেফ্লাওয়ার! মেফ্লাওয়ার!

একটা পোস্টকার্ডের ছবির সাথে মিলে গিয়েছে জাহাজটির ছবি। মানুষগুলো নিজেকে পরিচয় দিলো “পিলগ্রিম” হিসেবে। তারা কেবল যাত্রী। কারও সাথে বিভেদ চায় না। শান্তিতে বিশ্বাসী। নতুন বিশ্ব বা “নিউ ওয়ার্ল্ড”-এর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল তারা। সংখ্যায় ১০২ জন, জাতিতে ইংরেজ।

আমেরিকায় ইংরেজদের উপনিবেশ এই প্রথম নয়। মেফ্লাওয়ারের আগেও ইংরেজরা এসেছিল আমেরিকায়। প্রথম কলোনি ছিল ভার্জিনিয়ার জেমসটাউনে, ১৬০৭ সালে। আমেরিকার স্থানীয় আদিপুরুষেরা না বুঝেই আধিপত্যবাদীদের সাথে ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। সাদা চামড়ার ‘শান্তিপ্রিয়’ এই মানুষেরাই বাদামী চামড়ার আদি বা নেটিভ আমেরিকানদের নাম দেয় “রেড ইন্ডিয়ান”, অসভ্য বলে তাদের জমি ছিনিয়ে গঠন করে অধুনা ইউনাইটেড স্টেইটস অফ আমেরিকা।

নেটিভ আমেরিকানরা ছিল বাদামী-লাল বর্ণের। তাদের ছিল নিজস্ব ভাষা, ভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাস - যা শ্বেতাঙ্গদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। উত্তর আমেরিকায় ইংরেজরা কলোনি স্থাপনের পরই জমি দখল করা শুরু করে। ভার্জিনিয়াতে উল্লেখযোগ্য স্থানীয় গোষ্ঠীর মধ্যে পোহ্যাটান গোত্র প্রথম ইংরেজদের সাথে ব্যবসা শুরু করে, তাদের জমি ও সম্পদ দখলে নেয় ইংরেজরা। মেফ্লাওয়ারের যাত্রীরা ওয়াম্পানোয়াগ গোত্রের সাথে দ্বন্দ্ব শুরু করে এবং যুদ্ধের মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটে। আমেরিকার প্রতি বর্গমাইলে ঘটা অন্যতম রক্তক্ষয়ী যুদ্ধগুলোর মধ্যে অন্যতম এই “কিং ফিলিপ ওয়ার”।

একটু দ্রুত সামনে এগোই। ১৭৫৮ সালে একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। মেরি ক্যাম্পবেল নামের ছোট্ট একটি মেয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। দখলদাররা হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকে ক্যাম্পবেলকে। ক্যাম্পবেল তখন স্থানীয় গোত্র ডিলাওয়ার ইন্ডিয়ানদের সাথে। পেনসিলভেনিয়াতে তাদের সংস্কৃতির মধ্যেই বড় হতে থাকে সে। ক্যাম্পবেলকে পরবর্তীতে ফেরত দিয়ে দেয় ইন্ডিয়ানরা। কিন্তু ইংরেজরা এ সুযোগ হাতছাড়া করে না। স্থানীয় নেটিভ আমেরিকান, যাদের তারা “ইন্ডিয়ান” নাম দিয়েছে, তাদের প্রতি ইংরেজদের ঘৃণা সকল সীমা ছাড়িয়ে যায়। ক্যাম্পবেলের অপহরণকে কেন্দ্র করে নেটিভদের তারা “প্যাগান”, “খ্রিষ্টধর্মবিরোধী”, “অসভ্য” খেতাব দেয় এবং তাদের হত্যা করা বৈধ করে ফেলে।

ইংরেজ ও ইংরেজি শিক্ষায় পরিবর্তিত আমেরিকানদের নেটিভ আমেরিকান বা রেড ইন্ডিয়ানদের উপর চালানো অত্যাচার শতাব্দী থেকে শতাব্দীতে বিস্তৃত। ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ নির্মূল করে ফেলা হয় তাদের। এই গণহত্যার ইতিহাস এত বড় যে, এই ছোট্ট লেখায় আমরা পুরোটা বলতে পারব না। তবে উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা তো শোনা যেতেই পারে, তাই না?

নাডেনহাটেন ম্যাসাকার

ডিলাওয়ার ইন্ডিয়ানদের ওপর ইংরেজ দখলদারদের ক্ষোভ শেষ হয়নি বছরের পর বছর। ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছিল তারা। ডিলাওয়ার ইন্ডিয়ানরা পেনসিলভেনিয়াতে নিষিদ্ধ হয়ে যায়। তাদেরকে নিজেদের ঘর-বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়, দিনে কেবল দুয়েকবার দোকানপাটে যাবার অনুমতি দেওয়া হয়। এমনকি ডিলাওয়াররা নিজস্ব ধর্ম ছেড়ে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করে। এরপরেও তাদের নিষিদ্ধই রেখে দেয় বহিরাগত ইংরেজরা। 

১৭৮২ সালের ঘটনা। ইংরেজ মিলিশিয়া বাহিনী স্থানীয় দোকানে অবস্থানরত ডিলাওয়ারদের পেটাতে থাকে। কাঠের মুগুড় দিয়ে মুহুর্মুহু মারতে থাকে তাদের। অত্যাচারের এক পর্যায়ে শেষমেশ মৃত্যুবরণ করে ৯৬ জন ডিলাওয়ার ইন্ডিয়ান। ইতিহাসে এটি নাডেনহাটেন ম্যসাকার (Gnadenhutten Massacre) নামে পরিচিত। মেরে ফেলার আগে নারী ও মেয়েদের সম্মানহানী করেছিল তারা অথচ তোমরা কি জানো, এই ডিলাওয়াররাই ছিল প্রথম নেটিভ আমেরিকান গোত্র, যারা সাদাদের আনুষ্ঠানিকভাবে আশ্রয় দিয়েছিল! এরাই ইংরেজদের বিশ্বাস করে “শান্তি ও বন্ধুত্ব” চুক্তি করেছিল; এমনকি ২২৯টি নেটিভ গোত্রকে তারা উদ্বুদ্ধ করেছিল এই চুক্তি গ্রহণ করতে। আফসোস!

ক্রিক ওয়ার ও টিপেকানো-এর পরাজয়

১৮০০ শতাব্দীর শুরুর দিকে যুদ্ধনেতা টিকামসেহ স্থানীয় আমেরিকান ইন্ডিয়ান গোত্রগুলোকে উদ্বুদ্ধ করেন দখলদারদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে। তার প্রস্তাবনাগুলো ছিল: নিজেদের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ নিরসন এবং একত্রিত হয়ে নিজেদের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রাকে রক্ষা করা। কিন্তু ১৮১১ সালে গভর্নর উইলিয়াম হ্যারিসন প্রফেটসটাউন আক্রমণ করে বসে। প্রফেটসটাউন ছিল নেটিভ আমেরিকানদের ধুঁকতে থাকা জনপদের রাজধানী। দু’বছর যুদ্ধের পর, ১৮১৩ সালে টিপেকানো নদীর পাশে হত্যা করা হয় নেতা টিকামসেহ’কে। এই লড়াই আমেরিকার দক্ষিণে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে রূপান্তরিত হয়। ক্রিক ইন্ডিয়ান ও আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের বিরুদ্ধে দখলদার মিলিশিয়া বাহিনী, ইংরেজরা (ইংল্যান্ড থেকে আগত) এবং স্প্যানিশরা যোগদান করে। প্রথমদিকে ক্রিকরা কিছু লড়াইয়ে জিতলেও জেনারেল জ্যাকসন ২৫০০ সৈন্য নিয়ে ক্রিকদের আক্রমণ করে ধ্বংস করে দেয়। ১৮১৪ সালের নভেম্ভরের মৃদুমন্দ ঠান্ডা বাতাসে ১৮৬ জন ক্রিককে গুলি করে হত্যা করে জ্যাকসনের লোকেরা। জ্যাকসনের দলের সদস্য ডেইবি ক্রুকেট বলে, আমরা ওদের কুকুরের মতো মেরেছি! কুকুরের মতো!”

এই যুদ্ধ এত ভয়ানক ছিল যে, ক্রিক নারীরা নিজেদের সন্তানদের হত্যা করে ফেলেছিল, যাতে জ্যাকসনের বাহিনী ছোট বাচ্চাদের অত্যাচার করতে না পারে।

ইতিহাসে “রেড স্টিক ব্যাটেল” নামে পরিচিত এই যুদ্ধে হেরে ক্রিকরা নিজেদের ২১০ লক্ষ একর জমি বহিরাগত দখলদারদের হাতে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। নারী-পুরুষ ও শিশুদের নির্যাতন ও হত্যা তাদের কাছে কিছুই ছিল না।

ইন্ডিয়ান উৎখাত আইন

এত যুদ্ধের মাধ্যমে ক্রমশ অবৈধ জমি দখল করে ক্ষমতার শীর্ষে থাকাও যথেষ্ট ছিল না দখলদারদের জন্য। অবশেষে ১৮৩০ সালে সিনেটে “ইন্ডিয়ান উৎখাত আইন” পাশ হয়ে যায়। ১৮৩৩ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জেনারেল জ্যাকসন কংগ্রেসে বলে

“তাদের (রেড ইন্ডিয়ানদের) না আছে কোনো বুদ্ধিমত্তা, কোনো শিল্প, কোনো সভ্য-নৈতিক আচরণ, আর না কোনো উন্নতির ইচ্ছা - যা তাদের অবস্থার পরিবর্তনের জন্য অপরিহার্য। তারা একটি উন্নত জাতির (ঔপনিবেশিক) মধ্যে বসবাস করছে… তাদের বর্তমান পরিস্থিতি মেনে নিতে হবে এবং চিরকালের জন্য অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার আগেই আত্মসমর্পণ করতে হবে।”

মাত্র ২০ বছরের মধ্যে ৬০,০০০ নেটিভ আমেরিকানকে মাতৃভূমি ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়। মিসিসিপি নদীর পশ্চিমে করা হয় নতুন নিবাস। দীর্ঘ রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ অনাহার ও ক্লান্তিতে মৃত্যুবরণ করে।১০

ম্যানট্যাকোর গণহত্যা

নতুন ভূমিতে উপনিবেশবাদী সরকারের পক্ষ থেকে নেটিভদের যেসব আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তার কোনোকিছুই ঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছিল না। জমি ক্রয় বা ব্যবহার নেটিভদের জন্য অবৈধ ছিল। তাই সকল গোত্রই অনাহারে ভুগছিল। ডাকোটা ইন্ডিয়ান গোত্র মরিয়া হয়ে শ্বেতাঙ্গদের ফার্মে ছিনতাই শুরু করে। ১৮৬৪ সালে প্রেসিডেন্ট লিংকন ডাকোটা জনগোষ্ঠীর সাথে যুদ্ধের নামে ৪৯০ জনকে হত্যা করে, যার মধ্যে বেশিরভাগই ছিল শিশু ও নারী। যুদ্ধের পর ৩০৩ জন ডাকোটা পুরুষকে হত্যা করা হয়। ক্রিসমাসের ঠিক পরের দিন ম্যানট্যাকোতে আমেরিকার সেনাবাহিনী একত্রে ৩৯ জন ডাকোটা পুরুষকে ফাঁসি দেয়, যেটি আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বরোচিত ও সবচেয়ে বড় গণফাঁসির ঘটনা। চার হাজার মানুষের সামনে হত্যার এই পৈশাচিক খেলা দেখানো হয় ও উদযাপন করা হয়।১১

স্যান্ড ক্রিক ম্যাসাকার

নেটিভরা এ গণহত্যার বদলা নিতে দখলদারদের আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু তাদের এই সিদ্ধান্ত দখলদারদের বর্বরতার ন্যায়সঙ্গত কারণ হিসেবে কাজ করে। তারা বিশ্বকে দেখাতে পারে কেন তারা নেটিভদের উপরে নির্বিচার গণহত্যা চালাচ্ছে। কারণ নেটিভরাই শান্তি চায় না! তারা হিংস্র! তারা চায় যুদ্ধ, হত্যা আর বদলা! ফলে একই বছরে শান্তিপ্রিয় গোত্র শায়ান ও এরাপাহোর উপর আক্রমণ চালায় সেনাবাহিনী। দক্ষিণ-পূর্ব কলোরেডোতে ইন্ডিয়ানদের বৈধ আবাসে ৬৭৫ জনের বাহিনী হামলে পড়ে। আতঙ্কে জনপদের মানুষেরা আমেরিকার পতাকা ঝুলিয়ে দেয় বাড়িতে বাড়িতে - শান্তির প্রতীক হিসেবে। কিন্তু মিলিটারি কম করে হলেও ৬০০ জনকে হত্যা করে, যাদের বেশিরভাগই ছিল নারী ও শিশু।১২

কাস্টারের অভিযান এবং ঘোস্ট ড্যান্স মুভমেন্ট

একই সময়ে পশ্চিমে লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাস্টারের নেতৃত্বে একের পর এক আঘাত হানে মার্কিন সেনাবাহিনীর বিশেষ রেজিমেন্ট “সেভেন্থ ক্যাভালরি”। ১৮৬৮ সালে শায়ান-এরাপাহোর মিত্র গোত্র ও অন্যান্য নেটিভদের ১০৩ জনকে জবাই করে সেভেন্থ ক্যাভালরি। কাস্টার গর্ব করে বলে, “সেভেন্থ ক্যাভালরিকে হারানোর মতো যথেষ্ট ইন্ডিয়ান পৃথিবীর বুকে নেই।”১৩ কাস্টার একের পর এক আক্রমণ ও অভিযানের নামে গণহত্যা চালাতে থাকে, অবশেষে ‘লিটল বিগহর্ন’ নদীর তীরে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে কাস্টার মৃত্যুবরণ করে। কিন্তু কাস্টারের মৃত্যু মিলিটারির “আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে অভিযান করছি” - এই অপপ্রচারকেই শক্তিশালী করে তোলে।

১৮৮০-র দিকে নেটিভদের প্রতি শ্বেতাঙ্গ দখলদারদের ঘৃণা শিখরে পৌঁছায়। এদিকে নেটিভরা “ঘোস্ট ড্যান্স মুভমেন্ট” নামে একটি আন্দোলন শুরু করে। তারা বিশ্বাস করত যীশুখ্রিষ্ট একজন নেটিভ আমেরিকান (ইন্ডিয়ান) হিসেবে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। বহিরাগতরা একদিন এই ভূমি ছেড়ে চলে যাবে, নেটিভদের পূর্বপুরুষদের আত্মা দখলদারদের নির্মূল করে দিবে, এবং তারা সুখে-শান্তিতে বসবাস করবে। কেউ কেউ বিশ্বাস করত, এই ঘোস্ট ড্যান্সের মাধ্যমে ভূমিকম্প বা বন্যায় শ্বেতাঙ্গ জাতি নির্মূল হয়ে যাবে। ম্রিয়মাণ নেটিভদের জন্য এটি ছিল একটি আশার বাণী (পড়ো দুরাশা)। শীঘ্রই সেনাবাহিনী এই আন্দোলনের প্রবক্তাদের গ্রেফতার করে। ১৮৯০ সালের ডিসেম্বরে ‘উন্ডেড নী’ উপনদীর তীরে ১৫০-২০০ জন নিরস্ত্র লাকোটা জনগোষ্ঠীর লোককে হত্যা করে সেনাবাহিনী।১৪

এরপরে ঘোষণা করা হয় যে, ইন্ডিয়ানদের বিরুদ্ধে আর কোনো অভিযান চালানো হবে না। কিন্তু রেড ইন্ডিয়ানদের ওপর অত্যাচার ও শোষণ থেমে থাকেনি। আমরা কেবল হত্যার কথা বলেছি, কিন্তু তাদের অমানবিকতার ফিরিস্তি অনেক লম্বা। তোমাদের বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে যে, শ্বেতাঙ্গরা ইচ্ছে করে স্মল পক্সের রোগীর ব্যবহৃত কম্বল নেটিভদের দান করেছিল। ফলে পক্সে আক্রান্ত হয়ে অনেক নেটিভ আমেরিকান মারা যায়। প্রত্যেক নেটিভকে হত্যার জন্য ইউরোপিয়ান অবৈধ নিবাসীদের অর্থ-সম্পদ পুরস্কার দেওয়া হতো। এই বর্বরতার ফলে ১৯০০ সালের মধ্যে নেটিভ আমেরিকানদের সংখ্যা ১ কোটি থেকে ৩ লক্ষে নেমে আসে। প্রায় একশ বছর পর, ১৯৮০-র দশকে যখন স্বাধীনতার গালগল্প আমেরিকা প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে, তখনো আমেরিকা ও ক্যানাডার সরকার “ইন্ডিয়ান বোর্ডিং স্কুল” প্রতিষ্ঠা করেছে। রেড ইন্ডিয়ান বাচ্চাদের জন্য এসব স্কুলে যাওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। সেখানে তাদের জোরপূর্বক খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ, ইংরেজি শেখানো, নিজস্ব ভাষা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা মতো অনেক কিছু করা হয়।১৫

সভ্যতা, স্বাধীনতা ও শান্তির বার্তাবাহক আমেরিকার ইতিহাস অত্যন্ত নোংরা। এই শ্বেতসন্ত্রাসীরা গণহত্যা চালিয়ে নিরপরাধকেই বলে “সন্ত্রাসী”। বর্তমানে যখন নেতানিয়াহু বা ইউরোপিয়ান-আমেরিকান নেতৃবৃন্দের মুখে জাতিসংঘের “শান্তি প্রতিষ্ঠা”র বাণী শুনবে, জেনে রেখো - ওরা কোটি কোটি মানুষের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে মিথ্যা বলছে। ওরা এমনভাবে জাতির পর জাতি ধ্বংস করে দিয়েছে, যেন পৃথিবীর বুকে কোনোদিন তাদের অস্তিত্বই ছিল না!

রেফারেন্স:

১. Encyclopaedia Britannica Entry - Mayflower | History, voyage, landing, & Facts. https://tinyurl.com/yckh6ha2

২. Wikipedia Entry - Mayflower. https://tinyurl.com/yhvvntdh

৩. King Philip’s War (1675 - 1678). National Park Service. https://tinyurl.com/yx2m9vdu

৪. Fixico, D. L. (2025, May 28). When Native Americans were slaughtered in the name of ‘Civilization’ . HISTORY. https://tinyurl.com/bdf34umz

৫. প্রাগুক্ত

৬. Wikipedia Entry - Gnadenhutten Massacre. https://tinyurl.com/wwhaa9nr

৭. Wikipedia Entry - Battle of Tippecanoe. https://tinyurl.com/r8wxnt9m

৮. প্রাগুক্ত ৪ নং দ্রষ্টব্য।

৯. প্রাগুক্ত ৪ নং দ্রষ্টব্য।

১০. Wikipedia Entry - Trail of Tears. https://tinyurl.com/yvk3cmfy

১১. Wikipedia Entry - 1862 Mankato mass execution. https://tinyurl.com/ynaxkt3z

১২. Wikipedia Entry - Sand Creek massacre. https://tinyurl.com/yc534vd8

১৩. George Custer Part 1: There are not Enough Indians in the World to Defeat the Seventh Cavalry. (2025, February 5). https://tinyurl.com/553j8z6r

১৪. Wikipedia Entry - Wounded Knee Massacre. https://tinyurl.com/mr6mu9nj

১৫. Churchill, W. (2004). Kill the Indian, save the man: The Genocidal Impact of American Indian Residential Schools. City Lights Publishers.