তোমরা তো জানো, প্রতি পর্বেই আমরা সামাজিক শক্তি, সমাজ পরিবর্তন, অ্যাক্টিভিজম ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করি। আগের পর্বগুলোতে আমরা নিজেরা মিলে ক্লাব করা, ছোট ছোট কাজ দিয়ে অ্যাক্টিভিজম শুরু করা, লিফলেটিং, পোস্টারিং এগুলো নিয়ে জেনেছি। কিন্তু নিজেরা বসে আড্ডা দেওয়া, নিজেদের উন্নয়ন, নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক ভালো করা—এগুলোও কিন্তু অ্যাক্টিভিজমের গণ্ডির মধ্যে পড়ে! মজার না? নিজেরা বসে কিছু একটা নিয়ে আড্ডা দেবো, গল্প করব, সেটাও অ্যাক্টিভিজম!
বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে? বিশ্বাস না হলেও খুব সহজেই কিন্তু এই কাজটা করা যায়। হ্যাঁ, ঠিক ধরেছ। তোমার হাতে থাকা ‘ষোলো’ ম্যাগাজিনটা দিয়েই করতে পারবে এই সহজ অ্যাক্টিভিজম। সবাই মিলে একসাথে বসে ষোলোর যেকোনো লেখা পড়বে, আর সেটা নিয়ে সবাই কথা বলবে। ব্যস! তবে অন্যান্য অ্যাক্টিভিজমের মতো পাঠচক্র করার ক্ষেত্রেও কিছু ছোটখাটো নিয়ম আছে। আজকে সেগুলো নিয়েই আমরা কথা বলব।
কেন করব ষোলো পাঠচক্র?
- নিজেদের মধ্যে আন্তরিক ও আস্থার সম্পর্ক তৈরি করা; যাতে আমরা অপরকে আরও ভালোভাবে জানতে পারি, নিজেদের কোনো সমস্যার কথা শেয়ার করতে পারি, বিপদাপদে এগিয়ে আসতে পারি।
- আমরা শুধু গেইমের ভেতরেই না, বাস্তবেও সামাজিক কাজে হিরো হতে চাই। তাই আমরা অ্যাক্টিভিজম সম্পর্কে জানতে এবং তাতে নিজে যুক্ত হতে ও অন্যদেরকেও যুক্ত করতে পাঠচক্র করব।
- ফোনের নেশা বা উল্টাপাল্টা অভ্যাস থেকে দূরে থেকে লাইফ স্কিল, আদব-আখলাক আর ফিটনেস নিয়ে কাজ করব।
- ইসলামী মূল্যবোধ মেনে একদম কুল আর স্মার্টভাবে কীভাবে লাইফ লিড করা যায়, সেটাই হবে আমাদের লক্ষ্য।
এক কথায়, আমরা স্রেফ সাধারণ স্টুডেন্ট থেকে সমাজ ও উম্মাহর জন্য একজন যোগ্য সদস্য হতে চাই। তাই পাঠচক্র করব।
কাদের নিয়ে এই পাঠচক্র?
ষোলো ম্যাগাজিন তোমাদের অর্থাৎ, টিনেজারদের জন্য। তাই ষোলো পাঠচক্র তোমরাই করবে, তোমাদের নিয়েই করবে। বিশেষ করে যারা স্কুল-কলেজে পড়ছ, নিজেদের ফ্রেন্ড সার্কেল, এলাকার কাছের ছোট ভাই, কাজিন এদের নিয়ে করতে পারো। অনেক মানুষ দরকার নেই, ছোট একঝাঁক বন্ধু থাকলেই কেল্লাফতে!
পাঠচক্র কীভাবে করব?
পাঠচক্র মানে কিন্তু লেখাপড়ার মতো বোরিং কিছু না। এটা হবে মজার, সহজ, সাবলীল আর নিয়মিত। এখানে সবাই অংশগ্রহণ করবে, নিজের মতামত জানাবে; একটা আড্ডা যেমন হয় আরকি! এই সাতটি পয়েন্ট খেয়াল রাখলে তোমাদের পাঠচক্র হবে সহজ:
১. পাঠচক্র একেবারে প্রচুর প্ল্যান করে, আয়োজন করে, জাঁকজমকভাবে করব, এই চিন্তা শুরুতেই মাথা থেকে বাদ দিতে হবে। নাহলে দেখবে পাঠচক্র আর করাই হয়ে উঠবে না। হুট করে একদিন বড় অনুষ্ঠান করার চেয়ে প্রতি সপ্তাহে ছোট ছোট আড্ডায় পাঠচক্র করা অনেক বেশি কার্যকর।
২. অনেক বেশি মানুষ দরকার নেই। পাঠচক্রের সদস্য সংখ্যা কম রাখব, যাতে সবাই কথা বলতে পারে। ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যাওয়ার ভয় নেই এখানে!
৩. কোনো জটিল নিয়মকানুন নেই। খুব সহজভাবে আলাপ-আলোচনা চলবে। চায়ের টংয়ে আড্ডা দিতে দিতে, স্কুলে টিফিনের ছুটিতে কিংবা বিকালে খেলার শেষে পাঠচক্র হতে পারে।
৪. পাঠচক্রের সকল সদস্যের নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে। আজ ১০ জন, কাল ৫ জন—এমনটা হওয়া চলবে না। আমরা একে অপরকে টেনে ধরে রাখব, যেন কেউ ঝরে না পড়ে।
৫. তোমার অমুক বন্ধুটি লাজুক? কোনো সমস্যা নেই! পাঠচক্রে এমন পরিবেশ রাখতে হবে, যেন একদম চুপচাপ বন্ধুটিও মনের কথা বলতে পারে।
৬. ছেলেদের আড্ডায় শুধু ছেলেরাই, আর মেয়েদের আড্ডায় মেয়েরাই থাকবে। নো ফ্রি-মিক্সিং।
৭. পাঠচক্রে মাঝে মাঝে ছোটখাটো কুইজ থাকতে পারে এবং ছোট্ট মজার কোনো গিফট থাকতে পারে। ফলে পাঠচক্রে উৎসাহ ও আগ্রহ বাড়বে এবং তোমাদের বন্ধন আরও মজবুত হবে।
দেখলে তো, কত সহজ পাঠচক্র করা। এরপরও কি বসে থাকা যায়? আজই তোমার বন্ধুদের সাথে নিয়ে ষোলো পাঠচক্র করে ফেলো। পাঠচক্রের ছবি ষোলো’র ফেসবুক পেইজে পাঠিয়ে দিতে ভুলো না যেন!