বছর ঘুরে আবার শীতের আমেজ আসতে শুরু করেছে। তোমরা হয়তো খেয়াল করেছ, এখন ফজরে ঘুম থেকে উঠলে একটু শীত শীত লাগে। ভোরে বাইরে বেরোলে হালকা কুয়াশাও নজরে পড়বে। শীতকাল মানেই ছুটি কাটানো, মুখরোচক খাবার, বেড়াতে যাওয়া। তবে শীতকালে আনন্দের সাথে সর্দিকাশি, ত্বক ফেটে যাওয়া, খুশকি, বিষণ্ণতার মতো সমস্যাও পোহাতে হয়। সমস্যাগুলো যেহেতু শরীরকে ঘিরে, তাহলে চলো জেনে নিই কীভাবে শীতকালে শরীরের যত্ন নিতে হবে।
খাওয়া-দাওয়া:
শীতের সময় আমরা পিঠা-পায়েসের মতো প্রচুর মিষ্টি জাতীয় খাবার খাই। ফলে ওজন বেড়ে যাওয়া ও দাঁতের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই মিষ্টি জাতীয় ও তেলে ভাজা খাবার বেশি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এবং মিষ্টি খাবার খাওয়ার পর দাঁত ব্রাশ করতে হবে।
এমনিতেই চরম শীতে কুপোকাত, তার উপর লেপ-কম্বলের উষ্ণতার ভেতর থেকে বের হওয়ার ভয়ে টয়লেটে যেতে অনীহার কারণে অনেকেই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করে না। ফলে শরীর ডিহাইড্রেটেড বা পানিশূন্য হয়ে যায়। তাই শরীরকে সুস্থ রাখতে প্রতিদিন কমবেশি ৩ লিটার পানি পান করতে হবে।
কাশি বা গলাব্যথা থাকলে হালকা গরম পানি খাবে। আবার স্যুপও খেতে পারো।
তোমাদের যাদের শীতকালে এলার্জি হয়, তারা হয়তো ইতিমধ্যেই সর্দি-কাশিতে ভুগছ। এর সহজ সমাধান হলো, শীতকালীন ফল ও সবজি বেশি করে খাওয়া। কারণ এসময় সাধারণত যে অসুখ-বিসুখ হয় তা প্রতিরোধকারী পুষ্টিসমূহ পরম করুণাময় আল্লাহ শীতকালীন ফলমূল শাকসবজি যেমন : টমেটো, পালংশাক ইত্যাদিতে দিয়েছেন।
ত্বক ও চুল:
শীতকালে আমাদের ত্বক ফেটে যায়, শুষ্ক হয়ে থাকে। এই শুষ্কতা দূর করতে ও ত্বকের যত্নে ভালো লোশন, গ্লিসারিন, ক্রিম বা তেল যেমন: অলিভ ওয়েল ব্যবহার করতে পারো।
শীতকালে চুলে অনেক খুশকি হয়। এই সমস্যা থেকে রেহাই পেতে গোসলের বিকল্প নেই। তাই নিয়মিত গোসলের সময় শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করতে হবে। শীতের ভয়ে গোসল মিস দেওয়া চলবে না কিন্তু।
শরীরচর্চা:
শীতকালে দীর্ঘ সময় শুয়ে থাকা, চর্বি জাতীয় খাবারসহ বিভিন্ন কারণে শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা দেখা দেয়। নিয়মিত হাঁটা, বাড়িতে কার্ডিও ব্যায়াম বা খেলাধুলা, যেমন: ব্যাডমিন্টন শরীর ও মনকে অ্যাক্টিভ রাখে। শরীরে চর্বি জমে যাওয়া থেকে বাঁচায়। আর মনের বিষণ্ণতা দূর করতে শীতের সকালে রোদ পোহানো খুবই কার্যকরী।
বাড়তি টিপস:
শীতকালে ক্লাসে বা কোনো পরীক্ষা দিতে গেলে অবশ্যই হাত-মোজা পরে হাতকে উষ্ণ রাখবে। এতে পরীক্ষায় লিখতে না পারা বা লেখার গতি ধীরে হয়ে যাওয়ার সমস্যা হবে না।
শীতকালে পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে বাসায় আলাদা মোজা ব্যবহার করতে পারো।
তোমাদের শীতকাল আনন্দে ও সুস্থতায় কাটুক। শীতকালে কম্বল মুড়ে জমিয়ে ষোলো পড়তে ভুলো না যেন!