গত পর্বে আমরা শিখেছি লিফলেটিং-এর খুঁটিনাটি।[১] কীভাবে লিফলেট কেনার খরচ কমানো যায়, স্মার্টলি কীভাবে লিফলেট বিতরণ করা যায় ইত্যাদি সম্পর্কে জেনেছি। এই পর্বে আমরা ক্যাম্পেইন-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধরন—পোস্টারিং—নিয়ে বিস্তারিত জানব। পোস্টারিং কেন করবে, পোস্টার কোত্থেকে সংগ্রহ করবে, কী কী উপকরণ লাগবে, কোথায় কীভাবে সাঁটবে, কোন বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে—এই সবকিছু আজকের আলোচনায় পরিষ্কার হয়ে যাবে।
পোস্টারিং কেন করব?
সমাজের অবক্ষয় ও ভাঙ্গনগুলো তুমি সম্পর্কে তুমি জেনেছ, বুঝেছ এবং সতর্ক হয়েছ। কিন্তু এই সচেতনতা তোমার আশেপাশের সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াটাও কিন্তু তোমার দায়িত্ব। এই দায়িত্ববোধ থেকেই তুমি সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করতে চাচ্ছ। এর বেশ কিছু ধরন হতে পারে: লিফলেটিং, পোস্টারিং, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা ইত্যাদি। প্রত্যেকটিরই আছে কিছু সফলতা ও সীমাবদ্ধতা। যেমন, আমরা গত পর্বে দেখেছিলাম লিফলেটিং-এর সফলতা হলো এটি সহজেই মানুষের হাতে হাতে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, মানুষের নজর কাড়তে পারে, কোনো বিষয় মানুষের সামনে তথ্যবহুল রূপে উপস্থাপন করা যায়। আবার সীমাবদ্ধতা হলো মানুষ এটা না পড়েই অথবা একবার পড়েই ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারে। আরেকটা সীমাবদ্ধতা কী জানো? তোমার কাছে যতগুলো লিফলেট আছে সর্বসাকুল্যে গড়ে ততজন মানুষের কাছে তোমার বার্তা পৌঁছাতে পারবে। এরচেয়ে কম হওয়া মোটেই অস্বাভাবিক না। আর এখানেই পোস্টারের সবচেয়ে বড় সাফল্য। পোস্টার দেয়ালে সেঁটে থাকে, যত মানুষ এর সামনে দিয়ে যায় সকলের চোখে পড়ে। সংক্ষেপে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বার্তা অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। যেমন ধরো, কেউ আমাদের প্রিয় রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে কটূক্তি করল, তাঁকে অসম্মান করল। রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনুসারী ও তাঁর উম্মত হিসেবে এই গর্হিত কাজের বিরোধিতা করা ও রাসূলের সম্মান রক্ষা করা আমাদের অত্যাবশ্যকীয় দায়িত্ব। এই অতীব গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে পোস্টারিং খুবই কার্যকরী। ঠিক এই কারণেই আমরা পোস্টারিং করি।
কোথায় পাব পোস্টার?
পোস্টার হতে হবে মানসম্মত ও চোখে লাগার মতো। রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মানুষের হাতে অত বেশি সময় থাকে না। তাই পোস্টারের বার্তা হতে হবে সংক্ষিপ্ত এবং টু দ্যা পয়েন্ট। যাতে একবার চোখ বুলালেই যে কেউ সহজে বুঝতে পারে। লস্ট মডেস্টির ফেসবুক পেইজে সামাজিক অবক্ষয় ও কিশোর-তরুণদের সমস্যাগুলো সম্পর্কিত চমৎকার ডিজাইনের পোস্টারগুলোর সফট কপি (pdf, Ai এবং word ফাইল) পেয়ে যাবে।[২] সেগুলো তোমরা চাইলে স্থানীয় প্রিন্টিং প্রেস থেকে অথবা অনলাইন বিভিন্ন শপ থেকে প্রিন্ট করিয়ে নিতে পারো।[৩] গত পর্বে প্রিন্টিং ও খরচ কমানোর বেশ কিছু টিপস দেওয়া হয়েছিল, মনে আছে? কম খরচে পোস্টারিং করার জন্য সেই টিপসগুলো পোস্টারিং-এর ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করবে।
কী কী উপকরণ লাগবে?
পোস্টারিং-এর জন্য ৩টি উপকরণ দরকার:
● পোস্টার
● আঠা/গাম
● গাম লাগানোর জন্য ব্রাশ
আটা বা ময়দা গরম পানিতে গুলিয়ে নিজেরাই আঠা তৈরি করে নিতে পারো। এতে খরচ কম পড়বে। এটা সম্ভব না হলে বাজার থেকে আইকা গাম কিনে নিতে পারো (যেমন: Fevicol SH 500gm – ২০০-২৫০ টাকা, Fast Synthetic Resin Adhesive (FA-27) 500 gm – ১৭০-২০০ টাকা)। আর পোস্টারে আঠা লাগানোর জন্য রং করার মোটা চ্যাপ্টা ব্রাশগুলো কিনে নিতে পারো।
কোথায় কীভাবে পোস্টার সাঁটব
পোস্টারিং-এর উদ্দেশ্য হলো কোনো বার্তা সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানো। তাই পোস্টারিং-এর সময় ও স্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়গুলো পরিকল্পিতভাবে নির্ধারণ করতে হবে।
● স্থান নির্বাচন: প্রথম প্রশ্ন হলো, তুমি কাদের কাছে বার্তা পৌঁছাতে চাও? শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ নাকি অভিভাবক শ্রেণি? তোমার টার্গেট অডিয়েন্সের উপর ভিত্তি করে স্থান নির্বাচন করতে হবে। তোমার টার্গেট যদি হয় শিক্ষার্থীরা, তাহলে স্কুল-কলেজ-কোচিং-ভার্সিটির আশেপাশের এলাকায় পোস্টারিং করতে হবে। কারণ, সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী এই জায়গাগুলোতেই থাকে। অভিভাবকরাও এখানে থাকেন। আর টার্গেট যদি হয় সাধারণ মানুষ, তাহলে পোস্টারিং করতে হবে এমন জায়গায় যেখানে সাধারণ মানুষের আনাগোনা বেশি। যেমন, এলাকার ব্যস্ত সড়ক, অফিস-আদালত এলাকা, বড় বাজার ইত্যাদি।
● সময় নির্বাচন: এমন সময় পোস্টারিং করতে হবে যখন মানুষের আনাগোনা বেশি থাকে। যেমন, স্কুল-কলেজ শুরুর ও ছুটির সময়, অফিস ছুটির সময়, বাজারে বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে। তবে রাত-বিরাতে পোস্টারিং করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
● এক জায়গায় অনেক পোস্টার লাগানো যাবে না। গ্যাপ দিয়ে দিয়ে পোস্টার লাগালে বেশি এরিয়া কভার করা যাবে।
● পোস্টারিং করার পর নিজেদের ময়লা পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।
কোন বিষয়গুলোয় সতর্ক থাকব?
● যেসব জায়গায় পোস্টারিং করার অনুমতি নেই, যেমন: সরকারি ভবন, কারও ব্যক্তিগত বাড়ির দেয়াল, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা—এগুলো এড়িয়ে যেতে হবে।
● পোস্টারিং-এর সময় কেউ বাঁধা দিতে আসলে মার্জিত আচরণ করতে হবে, তাকে বুঝিয়ে বলতে হবে। তবুও না মানলে স্থান ত্যাগ করতে হবে। কোনো ঝামেলায় জড়ানো যাবে না।
● অন্য কারও নতুন পোস্টারের উপর পোস্টার লাগানো যাবে না। এতে করে ঝামেলা বাঁধতে পারে। তবে পুরোনো হয়ে যাওয়া, রং উঠে যাওয়া পোস্টারের উপর পোস্টারিং করা যেতে পারে।
● পোস্টারিং করার সময় মানুষের যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি করা যাবে না।
পোস্টারিং-এর হাতেখড়ি তো হয়ে গেল। আজ থেকে আর কোনো অজুহাত রইল না। কোমর বেঁধে নেমে পড়ো অ্যাক্টিভিসমের ময়দানে। পরের পর্বে পোস্টারিং-এর আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা হবে, ইনশাআল্লাহ।
তথ্যসূত্র:
১. গত পর্ব পড়ে নাও এই লিংক থেকে - https://sholo.org/oder-harate-diona-3
২. লস্ট মডেস্টির ফেইসবুক পেইজ - https://www.facebook.com/lostmodesty
লিফলেট, পোস্টারসহ সকল দিকনির্দেশনা পেয়ে যাবে এখানে - https://tinyurl.com/yrthxssj
শাতিমে রাসুল বিরোধী পোস্টার - https://tinyurl.com/474kvf3s
৩. অনলাইনে পোস্টার অর্ডার করতে পারো এখান থেকে -
Muwahhidah Shop - https://www.facebook.com/Muwahhidah.Bookshop.H24
Mashhadah Fragrance - https://www.facebook.com/MashhadahFragrance