- আসাদুল্লাহ আল গালিব

আমাদের স্কুল-কলেজ-ভার্সিটিগুলোতে অনেক কিছু শেখায়। বাংলা, ইংরেজি, সাহিত্য, কিংবা গণিত, রসায়ন, পদার্থবিদ্যা। এসবের পাশাপাশি নাচ-গানের মতো অর্থহীন জিনিসও শেখায়। কিন্তু শেখায় না জীবনে চলার জন্য অসম্ভব জরুরি কিছু বিষয়। তেমনই একটি বিষয় হলো Financial Literacy বা অর্থনৈতিক মুক্তি। সিলেবাসে অর্থনীতির তাত্ত্বিক আলোচনা থাকলেও, থাকে না দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করার মতো সরল কোনো নির্দেশনা।

আমার মতে, কিশোর বয়স থেকে অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সঠিক ও সহজ পরিকল্পনা নিলে পরবর্তীকালে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে পড়তে হবে না, ইনশাআল্লাহ। সে লক্ষ্যেই অর্থনৈতিক মুক্তি নিয়ে শুরু করেছিলাম সচেতনতামূলক ধারাবাহিক সিরিজ ‘যা স্কুল-কলেজ-ভার্সিটিতে শেখায় না’

গত পর্বে আলোচনা করেছিলাম স্বল্পমেয়াদি ও বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ নিয়ে। আশা করি, তোমরা অনেকেই সেটি আমল করা শুরু করেছ। এবারের পর্বে আলোচনা করব দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে। 

টিপস-৩: বাস্তবসম্মত দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্য নির্ধারণ

ছোটবেলা থেকেই যদি তুমি বাস্তবসম্মত (realistic) আর অর্জনযোগ্য (attainable) লক্ষ্য ঠিক করো, তাহলে সেটা তোমাকে পরিশ্রম করার একটা উদ্দেশ্য দেবে। লক্ষ্য তোমাকে পথ দেখাবে। পরিশ্রম করতে অনুপ্রাণিত করবে। বিপরীতে, লক্ষ্য না থাকলে তুমি সহজেই লাইনচ্যুত হয়ে যেতে পারো। তাই জীবনে বড় কিছু অর্জন করতে চাইলে লক্ষ্য নির্ধারণ করা জরুরি।

হ্যাঁ, দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য সহজেই হারিয়ে যেতে পারে। তবে এগুলো অর্জনে দৃঢ় থাকার চেষ্টা করবে। প্রয়োজনে সংশোধন করে নেবে। জটিল কোনো লক্ষ্য নেওয়ার প্রয়োজন নেই। যেগুলো তুমি সত্যিই অর্জন করতে পারবে, কেবল সেরকম কিছু লক্ষ্য নির্ধারণ করো। এরপর বছরে একবার সেগুলো চেক দেবে।

তোমার দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্য নির্ধারণের জন্য কিছু নমুনা বলে দিচ্ছি। এগুলো কেবলই উদাহরণ। তোমার ব্যক্তিগত ও পারিপার্শ্বিক বিষয় বিবেচনায় রেখে লক্ষ্যগুলো নিজের মতো করে সাজিয়ে নিতে পারো।

যেমন হতে পারে তোমার দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্য:

1. ২০ বছর বয়সের পর আমার পড়াশোনার খরচ আমি নিজেই বহন করব।

2. ২৩ বছর বয়সের মধ্যে নিজ উপার্জনে ল্যাপটপ কিনব। নতুন বা পুরাতন যেটাই হোক না কেন।

3. ২৫ বছর বয়সের মধ্যে বিয়ে করব। মাহরের টাকা নিজে পরিশোধ করব। এর জন্য প্রতি মাসে অল্প অল্প টাকা জমাতে হবে।

4. ২৭ বছর বয়সের মধ্যে বাবা হব ইনশাআল্লাহ!

5. ৩০ বছর বয়সের মধ্যে একটি মোটরসাইকেল কিনব।

6. ৩৫ বছর বয়সের মধ্যে উমরাহ করব।

7. ৪০ বছরের মধ্যে চাকরির পাশাপাশি নিজের ব্যবসা দাঁড় করাব।

8. ৫০ বছরের মধ্যে স্বপরিবারে হজ করব।

এই লক্ষ্যগুলো নিয়মিত পর্যালোচনা করো। বছরে একবার এগুলোতে চোখ বুলাও। প্রয়োজনে নতুন করে সাজাও। এগুলো অর্জনের জন্য প্রতি মাসে ছোট ছোট সঞ্চয় শুরু করো। প্রতি মাসে অল্প অল্প করলেও একসময় বড় অংক হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। মাসিক লক্ষ্য নিয়ে বিস্তারিত জানতে পারবে এই সিরিজের ২য় পর্বে।

প্রতি বছর তোমার আর্থিক অবস্থা পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে এই লক্ষ্যগুলোও অনেকটা বদলে নিতে হতে পারে। যদি পরিবর্তন করতেও হয়, তবুও এগুলো একই উদ্দেশ্যে কাজ করবে। এগুলো তোমাকে এমন আর্থিক লক্ষ্যগুলোর দিকে মনোযোগী করবে, যেগুলো নিয়ে নিয়মিত ভাবা প্রয়োজন। একইসাথে, এগুলো তোমাকে কঠোর পরিশ্রম করার একটি উদ্দেশ্যও দেবে।

যদি তুমি বাস্তবসম্মত এবং অর্জনযোগ্য দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারো, তাহলে এটা দেখে অবাক হবে যে, তুমি প্রায়ই সেগুলো অর্জন করতে পারছো। আরও অবাক হবে, যখন দেখবে কখনো কখনো তুমি নির্ধারিত লক্ষ্যকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছ!

তাহলে কাজে নেমে পড়ো। ‘ষোলো’ পড়া থেকে দশ মিনিটের বিরতি নাও। খাতা-কলম নিয়ে বসে পড়ো। চিন্তা করে করে লিখে ফেলো তোমার দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্য।

তোমার জন্য শুভকামনা রইল। আবারও কথা হবে পরবর্তী সংখ্যায়, নতুন আরেকটি টিপস নিয়ে, ইনশাআল্লাহ।