প্রশ্ন: নিজেকে নিয়ে খুব হীনমন্যতায় ভুগি, কোনো কাজে আত্মবিশ্বাস খুঁজে পাই না। অন্যদের তুলনায় নিজেকে খুব ছোট ও নীচ মনে হয়। আজকাল মেজাজ খিটখিটে থাকে সবসময়, বাবা-মায়ের সাথেও খারাপ ব্যবহার করে ফেলি। মনোবিদ ভাইয়া, কী করব?

উত্তর:

তোমার কষ্টের অনুভূতিগুলো আমি বুঝতে পারছি। তুমি জানিয়েছ, তোমার আত্নবিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে। তবে তোমার সমস্যাটা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নির্ণয় করতে আরও কিছু বিষয় জানা দরকার । যেমন, তোমার এই সমস্যাগুলো কতদিন ধরে হচ্ছে; পারিবারিক কোনো সমস্যা আছে কিনা; মা-বাবা, ভাইবোন কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে তোমার সম্পর্ক কেমন; পরিবারের কেউ কি সবসময় তোমাকে অন্যদের সাথে তুলনা করে কিনা। এছাড়াও তোমার ঘুম কেমন হয়, খেলাধুলা করো কিনা, ডিভাইস কী পরিমাণ ইউজ করো ইত্যাদি বিষয় জানতে হবে। যদি তোমার সমস্যাগুলো একটানা ১৪ দিনের বেশি হয়ে থাকে, তাহলে মনোরোগের ভাষায় এটাকে আমরা ‘মেজর ডিপ্রেসিভ ডিজঅর্ডার’ বলে থাকি। এক্ষেত্রে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হয়ে কিছু ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। আর যদি সমস্যাগুলো ১৪ দিনের কম সময়ের জন্য হয় বা মাঝে মাঝে হয়, তাহলে হয়তো খুব বেশি চিন্তার কারণ নেই, ইনশাআল্লাহ। সেক্ষেত্রে আমি কিছু পরামর্শ দিচ্ছি। 

প্রথম কাজ হলো, তোমার সমস্যাগুলো নিয়ে মা-বাবার সাথে বিস্তারিত আলাপ করতে হবে। তুমি চাইলে ভাই-বোন বা পরিবারের যে কারও সাথেও আলাপ করতে পারো। তোমার কষ্টের কথাগুলো তাদেরকে সময় নিয়ে বিস্তারিত বলবে। তারাও যেন তোমার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তাদের সাথে কোনো বিষয় নিয়ে বা সম্পর্কে কোনো সমস্যা থাকলে তা দূর করতে হবে। তোমার ব্যাপারে তাদের কোনো অভিযোগ থাকলে সেগুলো জানতে হবে। তাদের কোনো আচরণে তুমি কষ্ট পেয়ে থাকলে সেটাও বিনয়ের সাথে বলতে হবে। এরপর একসাথে সবাই মিলে সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে। 

পরিবারের কেউ কিংবা তোমার বন্ধু বা শিক্ষকের মধ্যে কেউ যদি তোমাকে অন্যদের সাথে তুলনা করেন, তাহলে তাদেরকে বুঝিয়ে বলতে হবে যে, তুলনা করা ভালো নয়। এতে নিজের প্রতি বিশ্বাসের ঘাটতি দেখা দেয়। তুমি যা পারো সেটাই যথেষ্ট, আলহামদুলিল্লাহ। তবে সবসময় ভালো করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। 

আরেকটা বিষয়, ডিভাইস ইউজ করার ব্যাপরে খুবই সতর্ক থাকতে হবে, কেমন? কেননা এটা আসক্তির পর্যায়ে চলে গেলে বিভিন্ন রকম মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত খেলাধুলা করবে। সামাজিকতাগুলো মেনে চলার চেষ্টা করবে। পরিবারের কাজে সাহায্য করবে। 

ডা. মোঃ মাসুদ রানা

সহকারী অধ্যাপক

চাইল্ড, এডোলেসেন্ট এন্ড ফ্যামিলি সাইকিয়াট্রি

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী।